

“বাঙালির সৌভাগ্য আজ থেকে ১০৬ বছর আগে বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার এক অখ্যাত গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন খোকা নামের এক ক্ষণজন্মা শিশু, যাঁর পোশাকি নাম শেখ মুজিবুর রহমান। কালের বিবর্তনে সেই টুঙ্গিপাড়ার শেখ মুজিব বাঙালির প্রতিটি আত্মনিয়ন্ত্রণের সংগ্রামের ধাপে যুক্ত থেকে হয়ে উঠলেন সাড়ে সাত কোটি বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর নেতৃত্বে দীর্ঘসংগ্রাম শেষে তাঁরই নামে পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হলো বাঙালির স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ, দ্বিজাতিতত্ত্বের বিপরীতে ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতীক।
পৃথিবীতে বহু জাতি স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছে কিন্তু সফল হয় নি, কারণ তাদের বঙ্গবন্ধুর মতো নেতা ছিল না। এককালের মহাপরাক্রান্ত জাতি কুর্দিরা দশকের পরে দশক সংগ্রাম করেও স্বাধীনতা দূরের কথা, ইরাক, সিরিয়া, তুরস্ক কিংবা ইরানের শাসকদের কাছ থেকে স্বায়ত্তশাসনের অধিকার আদায় করতে পারে নি নেতৃত্বের অভাবে। ফিলিস্তিনিরা শতাব্দীর তিন-চতুর্থাংশের বেশি সময় ধরে নিজভূমে প্রবাসী হয়ে রয়েছে, কারণ তাদের মাঝে বঙ্গবন্ধু জন্ম নেন নি। ইয়াসির আরাফাতের মতো সাহসী নেতাও প্রয়োজনীয় মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন নি, আর এখন ফিলিস্তিনিদের নেতৃত্ব চলে গিয়েছে একটি উগ্রবাদী সন্ত্রাসী দলের কাছে যারা শুধু ধ্বংস করতেই জানে। হাজার হাজার তামিলের প্রাণের বিনিময়েও তামিলরা পায় নি তাদের আরাধ্য স্বাধীন বাসভূমি তামিল ইলাম, বৈদেশিক সাহায্যের প্রশ্নে প্রভাকরণের হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে।
বঙ্গবন্ধু নেতা মানতেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে, কিছুদিন তাঁর নেতা ছিলেন মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, সম্মান করতেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হককে। তবে এঁদের সবাইকে তিনি যোজন যোজন পিছে ফেলে দিয়েছিলেন স্বাধীনতার প্রশ্নে একনিষ্ঠতা এবং দূরদর্শিতার কারণে। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা কোন হঠকারী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আসে নি। বহু বছরের প্রস্তুতি শেষে মাহেন্দ্রক্ষনেই তিনি ঘোষণাটি দিয়েছিলেন, তার আগে দিকনির্দেশনা দিয়ে গিয়েছিলেন তাঁর সুযোগ্য সহকর্মীদের, তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের, দেশের মানুষকে। তাই আমার মতো কোটি মানুষের কাছে বঙ্গবন্ধু এবং স্বাধীনতা শব্দগুলো একই অর্থ বহন করে।
এই মানুষটির জন্ম না হলে স্বাধীন বাংলাদেশ নামক জাতিরাষ্ট্রটির অভ্যুদয় হতো না। তিনি এমন একজন মানুষ যাঁকে তাঁর শত্রুরাও কখনো অগ্রাহ্য করতে পারে নি, এখনো পারছে না। পুরো মুক্তিযুদ্ধই ছিল বঙ্গবন্ধু-ময়, বাঙালি মুক্তিযুদ্ধ করেছে তাঁর নামে, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন তাঁর বজ্রকণ্ঠ শোনানো হতো, এমন কি যুদ্ধের শুরুতে নরঘাতক ইয়াহিয়ার ভাষণও ছিল মুজিবময়, পাকিস্তানের সেনা অফিসারদের স্মৃতিচারণেও বারবার উঠে এসেছে তাঁর নাম। তাঁর নাম শুনলে এখনো ভীত এবং ক্রুদ্ধ হয়ে উঠে বাংলাদেশের মৌলবাদী অপশক্তি।
‘যতদিন রবে পদ্মা, যমুনা, গৌরী, মেঘনা বহমান।
ততকাল রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান।।’
জয় বাংলা! জয় বঙ্গবন্ধু!! শুভ জন্মদিন হে জাতির জনক!!!
*****
আজ সন্ধ্যায় মঞ্চ ৭১ ক্যানাডার উদ্যোগে স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁয় বঙ্গবন্ধুর জন্মদিবস উদযাপিত হলো ইফতার ও দোআ মাহফিলের মাধ্যমে। সেখানে সংক্ষপিত বক্তব্য রেখেছিলেন আওয়ামী ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যে একমাত্র আমি অতি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রেখেছিলাম।
অনুষ্ঠানটির শেষ পর্যায়ে নেত্রী শেখ হাসিনা হোয়াটস্যাপ কল করে সরাসরি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রেখেছিলেন। নেতাকর্মীরাও সরাসরি তাঁর সাথে কিছু কথা বলেছিলেন। নেত্রী দেশের সার্বিক পরিস্থিতি এবং এই পরিস্থিতিতে সুদৃঢ় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানটির কয়েকটি স্থিরচিত্র সন্নিবেশিত করলাম। আমার স্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার পুরো বক্তব্য রেকর্ড করেছিলেন, আশা করি তিনি সেই বক্তব্য পোস্ট করবেন। নেটের দূর্বলতার কারণে সরাসরি সম্প্রচার করা সম্ভব হয়নি।
মঞ্চ ৭১ ক্যানাডার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।











