পাবনা প্রতিনিধি | ১০ জুন ২০২৬
পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া গ্রামের এক কিশোর কলেজ শিক্ষার্থী অনলাইন বেটিং সাইটের মাধ্যমে প্রায় ১০ কোটি টাকার জালিয়াতির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অভিযুক্ত রাশেদ হাসান (১৭) বর্তমানে সাতবাড়িয়া ডিগ্রী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী এবং আগামী ২০২৬ সালে এইচএসসি পরীক্ষার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
### অভিযুক্তের পরিচয়
রাশেদ হাসানের বাড়ি পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া গ্রামের উনার নাড়োহাটি এলাকায়। তিনি স্থানীয় সাতবাড়িয়া ডিগ্রী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর নিয়মিত শিক্ষার্থী। বয়স মাত্র ১৭ বছর হলেও তিনি কীভাবে এত বড় অঙ্কের জালিয়াতিতে জড়িত হলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সর্বত্র।
### জালিয়াতির পদ্ধতি
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাশেদ হাসান বিভিন্ন অনলাইন বেটিং সাইট ব্যবহার করে এই বিশাল অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তিনি কৌশলে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে বেটিংয়ের নামে প্রতারিত করেন। প্রাথমিক তদন্তে প্রায় ১০ কোটি টাকার জালিয়াতির তথ্য পাওয়া গেছে।
### স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, রাশেদ হাসানকে তারা একজন সাধারণ মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবেই চিনতেন। এমন বড় ধরনের অপরাধের সাথে তার জড়িত থাকার বিষয়টি তাদের জন্য অবিশ্বাস্য।
সাতবাড়িয়া ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ জানান, “আমরা এই বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি। যদি অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।”
### আইনানুগ ব্যবস্থা
এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা থানায় মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে এবং রাশেদ হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে কিনা, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ডিজিটাল নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, অনলাইন বেটিং সাইটগুলো অনেক সময় জালিয়াতির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সাধারণ মানুষকে এমন সাইট থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
### শিক্ষার্থীদের জন্য বার্তা
এই ঘটনা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। অনলাইন জগতে সতর্কতা অবলম্বন করা এবং আইনানুগ পথে চলার গুরুত্ব এই ঘটনা আরও一次 স্পষ্ট করেছে।
তদন্ত চলমান রয়েছে এবং বিস্তারিত তথ্য শীঘ্রই জানা যাবে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।







