ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসে অন্যতম ভালো, গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর নির্বাচন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি দাবি করেছেন, নির্বাচন কমিশন জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে সক্ষম হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের ফলাফল পরিবেশন কেন্দ্রে আয়োজিত আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে সিইসি এসব কথা বলেন।
সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, ‘সারাদেশে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল সন্তোষজনক। কিছু সীমাবদ্ধতা ও ত্রুটি থাকলেও সামগ্রিকভাবে নির্বাচন একটি উচ্চ মানদণ্ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের যে অঙ্গীকার করেছিল, তা আমরা রক্ষা করতে পেরেছি।’
নির্বাচনের বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, গণভোটসহ এই বিশাল ভোট কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনায় প্রায় ১৭ লাখ কর্মকর্তা-কর্মী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি আরও জানান, কোথাও বড় ধরনের অনিয়ম বা সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি এবং ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
ফলাফল ঘোষণার বিষয়ে সিইসি স্পষ্ট করে বলেন, ‘কোনো বেসরকারি বা অপ্রমাণিত ফলাফল নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে গ্রহণযোগ্য নয়। শুধুমাত্র রিটার্নিং কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরিত এবং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাপ্ত ফলাফলই কমিশন থেকে প্রকাশ করা হবে।’
ভোট গণনায় সময় লাগার কারণ ব্যাখ্যা করে সিইসি বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে গণভোট ও পোস্টাল ব্যালট অন্তর্ভুক্ত থাকায় ফলাফল চূড়ান্ত করতে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা সময় লাগছে। তবে এতে কোনো কারসাজি বা অনিয়মের সুযোগ নেই।’
নির্বাচন কমিশন কোনো গোপনীয়তায় বিশ্বাস করে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণমাধ্যমের মাধ্যমেই সারাদেশের জনগণের সামনে নির্বাচন প্রক্রিয়া ও ফলাফল সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে তুলে ধরতে কমিশন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অতীতের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে সিইসি দাবি করেন, বিগত দিনের বিতর্কিত নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবারের নির্বাচন যেকোনো মানদণ্ডে অধিক গ্রহণযোগ্য ও আস্থাযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। ব্রিফিংকালে নির্বাচন কমিশনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।













