
উইকলি টরন্টো:
ফ্লোরিডায় নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জাহিদ লিমনের মরদেহ উদ্ধারের পর তার রুমমেট হিশাম আবু গারবিয়েহকে গ্রেপ্তারের ঘটনাটি ছিল সিনেমার মতো রোমাঞ্চকর। স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে টাম্পার নর্থ এলাকা ‘লেক ফরেস্ট কমিউনিটি’র একটি বাড়িতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে হেফাজতে নেয় হিলসবোরো কাউন্টি পুলিশ।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকাল ৯টা নাগাদ হিশামের বাড়িতে একটি পারিবারিক সহিংসতার ফোন পেয়ে পুলিশ সেখানে পৌঁছায়। পুলিশ আসার খবরে হিশাম নিজেকে ঘরের ভেতর আটকে রেখে ‘ব্যারিকেড’ তৈরি করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় দ্রুত ঘটনাস্থলে ডাকা হয় পুলিশের বিশেষায়িত বাহিনী ‘সোয়াত’, ড্রোন রেসপন্স টিম, ক্রাইসিস নেগোশিয়েটর এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট।
প্রায় দেড় ঘণ্টার টানটান উত্তেজনার পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হিশাম আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন। সিসিটিভি এবং পুলিশের ক্যামেরায় দেখা যায়, হিশাম কোনো পোশাক ছাড়াই শুধু একটি নীল রঙের তোয়ালে জড়িয়ে হাত উঁচিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসছেন।
গ্রেপ্তারের পর হিশামের বিরুদ্ধে লিমনের মরদেহ অবৈধভাবে স্থানান্তর, তথ্য গোপন এবং আলামত নষ্ট করার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, নিখোঁজ হওয়ার আগে থেকেই হিশাম পুলিশের নজরদারিতে ছিলেন। গত বৃহস্পতিবারও তাকে জেরা করা হয়েছিল, কিন্তু এক পর্যায়ে তিনি সহযোগিতা করা বন্ধ করে দেন। শুক্রবার সকালে লিমনের মরদেহ হোয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের নিচ থেকে উদ্ধারের পরপরই পুলিশের কাছে নিশ্চিত প্রমাণ আসে যে এই ঘটনার সাথে হিশাম সরাসরি জড়িত।
তদন্তে আরও বেরিয়ে এসেছে যে, হিশাম আগে থেকেই পুলিশের ‘রাডারে’ ছিলেন। ২০২৩ খৃস্টাব্দে তার বিরুদ্ধে চুরি এবং সহিংসতার অভিযোগে মামলা হয়েছিল। বর্তমানে তিনি হিলসবোরো কাউন্টি জেলে কোনো জামিন ছাড়াই বন্দি আছেন। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, আরেক নিখোঁজ শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মৃত্যুর পেছনেও এই হিশামের কোনো হাত রয়েছে কি না। মেধাবী দুই শিক্ষার্থীর এই পরিণতিতে পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটি এখন বিচারের অপেক্ষায়।







